Home » খতিয়ান বলতে কি বুঝায়? খতিয়ানকে সকল বইয়ের রাজা বলা হয় কেন?

খতিয়ান বলতে কি বুঝায়? খতিয়ানকে সকল বইয়ের রাজা বলা হয় কেন?

by Rezaul Karim
খতিয়ান বলতে কি বুঝায়, খতিয়ানকে সকল বইয়ের রাজা বলা হয় কেন,

খতিয়ান

খতিয়ানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে ledger, ইংরেজি ledge শব্দ হতে ledger শব্দের উৎপত্তি। Leidge শব্দের অর্থ তাক বা শেলফ। একটি তাক বা শেলফে যেমন গৃহস্থালির জিনিসপত্র সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয় তেমনি ledger বা খতিয়ানে ব্যবসায়ের লেনদেনগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে, শ্রেণিবদ্ধভাবে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়। এই কারণে যে বইতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রকৃতির সমুদয় লেনদেনসমূহ জাবেদা হতে স্থানান্তরিত করে সমজাতীয়তার ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করে পৃথক পৃথক শিরোনামে সংক্ষিপ্তাকারে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

হিসাব চক্র কি? হিসাব চক্রের ধাপ গুলো কি কি?

খতিয়ানকে সকল বইয়ের রাজা বলার কারণ

খতিয়ান হিসাবচক্রের দ্বিতীয় স্তর বা ধাপ হলেও বিভিন্নমুখী ব্যবহারিক গরুত্বের কারণে খতিয়ানকে সকল হিসাব বইয়ের রাজা বলা হয়। কারণ খতিয়ানে জাবেদাভুক্ত সকল লেনদেনের শ্রেণিবিন্যাসকৃত সংশ্লিষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্যাবলি লিপিবদ্ধ থাকে। তাই William Pickles যথার্থই মন্তব্য করেছেন, “খতিয়ান হলো সাহায্যকারী বা জাবেদাভুক্ত সকল দাখিলার গন্তব্যস্থল।” কারণ জাবেদাভুক্ত প্রতিটি লেনদেনকে বাধ্যতামূলকভাবে হিসাবখাত ওয়ারি স্থানান্তর করা হয়। এটা যা-ই হোক, নিচে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে খতিয়ানকে সকল বইয়ের রাজা বলার কারণ সমূহ উল্লেখ করা হলো-

১. স্থায়ীভাবে হিসাব: সংরক্ষণ জাবেদায় সংরক্ষিত লেনদেনসমূহকে পরবর্তীকালে খতিয়ানে স্থানান্তর করে স্থায়ীভাবে খাতওয়ারি সংরক্ষণ করা হয়।

২. হিসাবের শ্রেণিবিন্যাস: সকল প্রকার হিসাবকে সংক্ষিপ্ত ও শ্রেণিবিন্যাস করে উপযুক্ত শিরোনামের অধীনে সাজিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে প্রত্যেক প্রকার হিসাবকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।

৩. হিসাবের প্রকৃতি ও পরিমাণ জানা: খতিয়ানে পৃথক পৃথকভাবে হিসাব সংরক্ষণ করা হয় বলে প্রত্যেক প্রকার হিসাবের প্রকৃতি ও পরিমাণ সহজেই জানা যায়।

৪. গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই: দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি মোতাবেক খতিয়ানস্থিত হিসাবসমূহের জের নিয়ে রেওয়ামিল তৈরির মাধ্যমে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা হয়।

৫. চূড়ান্ত হিসাব তৈরি: খতিয়ানের জেরের সাহায্যে তৈরিকৃত রেওয়ামিল হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবসায়ের চূড়ান্ত হিসাব তৈরি করা হয়।

জাবেদা কাকে বলে? জাবেদার বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?

৬. তথ্যের ভান্ডার: খতিয়ান হচ্ছে ব্যবসায়ের যাবতীয় লেনদেনের স্থায়ী তথ্যভান্ডার। ফলে পরিচালনা পর্ষদ খতিয়ান হতে সহজেই যাবতীয় তথ্য পেয়ে থাকে।

৭. ফলাফলের বিচার: তাছাড়া ব্যবসায়ের সাফল্য বা ব্যর্থতা সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণের জন্য তথ্যের মূল উৎস হলো খতিয়ান।

মোটকথা, উপরের আলোচনা হতে দেখা যায় যে, খতিয়ান হলো এমন একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসাবের বই যাকে যথার্থভাবেই হিসাবের তথ্য কেন্দ্র বা সকল হিসাব বইয়ের রাজা বলা যায়।

Related Posts