Home » দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা কি কি?

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা কি কি?

by Rezaul Karim
দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা, দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা কয়টি,

দু’তরফা দাখিলা পদ্ধতি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ পূর্ণাঙ্গ ও বিজ্ঞানসম্মত হিসাবব্যবস্থা। তাই এ পদ্ধতির বেশ কতগুলো ব্যবহারিক সুবিধা রয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে এ পদ্ধতি সর্বজনীনভাবে ব্যবহৃত ও জনপ্রিয়। অনেকেই দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা গুলো জানতে চান বা দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা কয়টি জানতে গুগলে সার্চ করে থাকেন। আজকের আর্টিকেলে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতি কাকে বলে? দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির বৈশিষ্ট্য কয়টি?

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা

নিচে দুতরফা দাখিলা পদ্ধতির সুবিধা গুলো আলোচনা করা হলো-

১. স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসাবব্যবস্থা

এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হিসাবব্যবস্থা। প্রতিটি লেনদেনকে ডেবিট এবং ক্রেডিট বিশ্লেষণ করে লিপিবদ্ধ করা হয়। এতে করে সমগ্র লেনদেনগুলোর একটি সামগ্রিক হিসাব চিত্র পাওয়া যায়।

২. পরিপূর্ণ হিসাবরক্ষণ

এই হিসাব ব্যবস্থায় লেনদেনের পরিপূর্ণ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।

৩. হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই

এই পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি লেনদেনের উভয় পক্ষে লিপিবদ্ধ করা হয়। প্রতিটি ডেবিটের ৩ জন্য সমপরিমাণ ক্রেডিট করা হয়। মোট ডেবিট সবসময় মোট ক্রেডিটের সমান হয়। ফলে লেনদেনের দুটি দিক সমান হচ্ছে কিনা তা যাচাই করার জন্য রেওয়ামিল তৈরি করে হিসাবের গাণিতিক শুদ্ধতা যাচাই করা হয়।

৪. ভুল সংশোধন

এ পদ্ধতিতে লেনদেনের দ্বৈতসত্তা অনুসারে হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। ফলে হিসাব যাচাই করে যেকোনো সময় ভুল ধরা পড়লে তা সহজে সংশোধন করা সম্ভব হয়।

৫. ব্যবসায়ের চূড়ান্ত ফলাফল নিরূপণ

এ পদ্ধতিতে ব্যবসায়ের প্রতিটি আয়-ব্যয়, দায়-দেনা ও সম্পত্তির পৃথক পৃথক হিসাবরক্ষণ করা হয়। ফলে একটা নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো হতে ক্রয়-বিক্রয় হিসাব, লাভ-লোকসান হিসাব তৈরি করে মোট লাভ ও নিট লাভ-লোকসান এর পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হয় এবং উদ্বৃত্তপত্র তৈরি করে সম্পত্তি ও দায়ের পরিমাণ জানা যায়।

৬. ফলাফলের তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করা

এ পদ্ধতিতে বর্তমান সময়ের অর্জিত ফলাফল ও কার্যাবলির সাথে পূর্ববর্তী এক বা একাধিক বছরে অর্জিত ফলাফল ও কার্যাবলির তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়।

৭. ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার

এ পদ্ধতিতে রক্ষিত হিসাব তথ্য হতে ব্যবসায়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন, নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনাকে বিশেষভাবে সহায়তা করে। তাই দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হিসাবকে ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হয়।

হিসাব সমীকরণ কি | হিসাব সমীকরণের সূত্র ও উপাদান সমূহ

৮ . দক্ষতা বিচার

এ পদ্ধতিতে ব্যবসায়ের আয়-ব্যয়, ‘লাভ-লোকসান, দেনা-পাওনা, দায় ও সম্পত্তির পৃথক পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করা হয়। ফলে অনুপাতের সাহায্যে ব্যবসায়ের দক্ষতা বিচার করা সম্ভব হয়।

৯. পণ্যের মূল্য নির্ধারণ

এ পদ্ধতিতে পণ্যের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করা হয় বলে মজুত পণ্য, উৎপাদিত পণ্যদ্রব্য এবং বিক্রয়যোগ্য পণ্যের সঠিক মূল্য নিরূপণ ও মূল্য নির্ধারণ সম্ব হয়।

১০. ব্যয় নিয়ন্ত্রণ

দুতরফা দাখিলা পদ্ধতিতে প্রতিটি খরচ ও আয়ের হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে অনুৎপাদক, কম লাভজনক ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হ্রাস বা নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবসায়ের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।

শেষকথা

একটি বিজ্ঞানসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ হিসাবব্যবস্থা হিসাবে দুতরফা দাখিলা হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির উপযোগিতা সর্বজনীন। তাই বিশ্বের সব দেশেই এ পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।

Related Posts