Home শিক্ষানৃবিজ্ঞান বিবর্তনবাদ কি ? মর্গানের বিবর্তনের তিনটি কাল উল্লেখপূর্বক আলোচনা কর

বিবর্তনবাদ কি ? মর্গানের বিবর্তনের তিনটি কাল উল্লেখপূর্বক আলোচনা কর

by Rezaul Karim
বিবর্তনবাদ কি

বিবর্তনবাদ

বিবর্তনবাদ নিয়ে লেখকগণ মানবিক সমাজ সংস্কৃতির নতুনতর বিকাশের যে তথ্য প্রদান করেছেন তা সমাজতত্ত্ববিদদের চিন্তার জগতে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। সমাজ সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের উপর ভিত্তি করে গবেষণা পরিচালনার ইতিহাসে চার্লস ডারউইনের নাম অবিস্মরণীয়। চার্লস ডারউইনের বিবর্তনবাদ তো বিশ্বখ্যাত। তাঁর গবেষণায় বিষয়বস্তুগত জিজ্ঞাসা হলো বিশ্বে জীবজন্তু প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কিভাবে প্রভাবান্বিত হয় এবং কিভাবে তাদের মধ্যে বিকাশ এবং বিবর্তন দেখা দেয়। যন্ত্র জগতে বিকাশ এবং বিবর্তনের চালিকাশক্তি হলো বস্তু জগৎ। কিন্তু ডারউইন পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছেন যে, মানুষ বস্তুজগতের প্রক্রিয়াকে আংশিকভাবে হলেও পরিচালিত করতে পারে, যদি সে বস্তু জগতের চালিকাশক্তির সাধারণ নিয়মগুলো বুঝতে পারে। তিনি সমাজের ক্রমবিবর্তন প্রক্রিয়ার একটি অনন্য সাধারণ চিত্র তুলে ধরেছেন তাঁর The Origin of Species এবং The Descent of Man গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে। তাঁর তত্ত্ব অনুসারে উত্তিস প্রাণী বর্তমান রূপে সৃষ্টি হয়নি। স্থির ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে পূর্বেকার রূপ হতে এরা বর্তমান রূপ লাভ করেছে।

ডারউইনের অনেক আগেই হার্বার্ট স্পেন্সার এর The Development of Hypothesis’ নামক এক প্রবন্ধে যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৫২তে আর ১৮৫৫ প্রকাশিত তাঁর ‘Principles of Psychology’ গ্রন্থে বিবর্তনবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে লিনায়িন সমিতির সামনে ডারউইন ওয়ালেস তাদের প্রসিদ্ধ প্রবন্ধটি সর্বপ্রথম পাঠ করেন এবং ১৮৫৯ যখন The Origin of Species’ প্রকাশিত হলো তখন বিবর্তনের কথা ছড়িয়ে পড়লো বিশ্ব সমাজে। এরপর এক দশকের মধ্যেই সমগ্র পৃথিবী বলতে শুরু করলো বিবর্তনের কথা। কিন্তু এসব মননশীলতার প্রভাবের চেয়ে হার্বার্ট স্পেন্সারের তরুণ বয়সেই ইংল্যান্ডকে বেশি আলোড়িত করে তুলেছিল। জীববিদ্যার ক্রমোন্নতি আর বিবর্তনবাদ চিন্তা তরঙ্গের উচ্চ চূড়ায় হার্বার্ট স্পেন্সারের স্থান হওয়ার মূল কারণ হলো তিনি আশ্চর্য স্বচ্ছতার সাথে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিবর্তনবাদের ভাবধারাকে প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর জ্ঞানের পরিধি এত বিস্তৃত ছিল যে প্রায় সব জ্ঞানকেই তিনি মতের অনুগত করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন।

হার্বার্ট স্পেন্সার প্রথমে সমাজকে প্রাণীর সাথে তুলনা করেন এবং স্বীয় ব্যাখ্যাকালে উল্লেখ করেন যে, যেহেতু প্রাণীদেহ কতিপয় ক্রমপরম্পরা স্তর পর্যায়ের মাধ্যমে উদ্ভূত হয়, তেমনি প্রাণদেহতুল্য সমাজও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট স্তর অতিক্রম করে স্বীয়রূপে আত্মপ্রকাশ করে। হার্বার্ট স্পেন্সারের সামাজিক বিবর্তনবাদ এর তত্ত্ব গ্রহণ করে বিবর্তনবাদী চিন্তাধারার আরো ব্যাপক বিকাশ ঘটে মানুষের সাংস্কৃতিক গতিধারার সার্বিক ক্রমবিকাশ পর্যালোচনা করে সংস্কৃতির ক্রমবিবর্তন পদ্ধতির উপর আশ্রয় গ্রহণ করেন নৃবিজ্ঞানী . বি. টেইলর এল. এইচ. মর্গান।

আরও পড়ুন:   নৃবিজ্ঞানের শাখা সমূহ আলোচনা কর

বিবর্তনবাদ মতবাদ অনুযায়ী সামাজিক সাংস্কৃতিক নানা উপাদানের এক জটিল মিশ্রণে আদিম মানবসমাজ সংস্কৃতি একটি বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সভ্যতার রূপ পরিগ্রহ করে। মতের প্রবক্তাগণ যেসব উপাদানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তার মধ্যে রক্তের সম্বন্ধ, ধর্ম, সমাজবদ্ধ জীবনের সহজাত প্রবৃত্তি, অর্থনৈতিক প্রয়োজন, রাজনৈতিক চেতনা প্রভৃতির উল্লেখ করা হয়। মর্মে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগে আদিম সমাজসমূহের উপর গবেষণার ফলে মানবজাতির বিবরণ সংক্রান্ত বিজ্ঞানে সংগৃহীত তথ্যাবলি, তার ফলে বিভিন্ন বিষয়ের উপর পারদর্শী হওয়ার ফলে ক্রমবর্ধমান শ্রমবিভাগ, পুঁজি সঞ্চায়ন, সমাজের উপর বিভিন্ন ধারণা বিকশিত হওয়ার সাথে সাথে উদ্ঘাটিত হলো যে, সাংস্কৃতিক বিবর্তনের প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিক এবং তার ফলেই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ভিত্তিক আদিম সমাজগুলো ক্রমশই বিকাশমান হয়ে নাগরিক সভ্যতা বিশিষ্ট আধুনিক সমাজে এসে পৌঁছেছে।

নৃবিজ্ঞানী . বি. টেইলর তাঁর ‘Primitive Culture’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে, মানবাত্মা বা অন্যান্য আত্মার বিশ্বাসটি গড়ে উঠেছে ধীরে ধীরে মানুষের জীবনের নানা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করার পর। এভাবে সর্বপ্রাণবাদ ধর্মের বিবর্তনের একটি অন্যতম ব্যাখ্যারূপে পরিগণিত হয়।

মর্গানের বিবর্তনের তিনটি কাল

মর্গান তাঁর ‘Ancient Society’ নামক গ্রন্থে সংস্কৃতির নতুনতর আবিষ্কারের মধ্যে সমাজের স্তরের কথা উল্লেখ করেন। মর্গান সংস্কৃতির উৎপত্তি ক্রমবিকাশের ধারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে বলেছেন যে, সংস্কৃতি স্থির বিবর্তনের মাধ্যমে পূর্বেকার রূপ হতে নতুন রূপ লাভ করে। তিনি মানবসমাজের সংস্কৃতির বিবর্তনের কালকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। আমরা নিম্নে তা সংক্ষেপে তুলে ধরার চেষ্টা করছি; যথা : বন্যদশা (Savagery), বর্বর অবস্থা (Barbarism) সভ্যযুগ (Civilization)

বন্যদশা

বন্য জীবনে মানুষ জীবন কাটাতো প্রধানত শিকার করে ফলমূল আহরণ করে। স্তরে মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করতো। একেবারে আদিম অবস্থা থেকে মাটির পাত্র তৈরি করতে শেখার পূর্ব পর্যন্ত একে বন্য অবস্থার কাল বলে গণ্য করা হয়। মর্গান অবস্থার সমাজের উদাহরণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া পলিনেশিয়ার অধিবাসীদের সমাজ এবং কলম্বিয়া উপত্যকা হাডসন যে টেরিটরির আদিবাসীদের কথা উল্লেখ করেন। মর্গান বন্যদশাকে আবার তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেন; যথা : বন্য অবস্থার নিম্ন পর্যায়, বন্য অবস্থার মধ্য পর্যায় বন্য অবস্থার উচ্চ পর্যায়

. বন্য অবস্থার নিম্ন পর্যায় (Lower Stage of Savagery) : পর্যায়ে মানুষ ছিল অরণ্যাচারী পর্বতবাসী। ফলমূল ছিল তাদের খাদ্য। পর্যায়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে পথকোচ্চারিত ভাষার উৎপত্তি। ঐতিহাসিক যুগে যেসব জনসমাজের সাক্ষাৎ পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে কোথাও আদিম পর্যায়ের সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না। যদিও পর্ব সম্ভবত হাজার হাজার বছর ধরে চলেছে, তবুও এর অস্তিত্বের কোন প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই; কিন্তু যখনই আমরা পশ্চাৎ জগৎ থেকে মানুষের উৎপত্তি মেনে নেই, তখনই এমন একটি উৎক্রমণ স্তর মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

. বন্য অবস্থার মধ্য পর্যায় (Middle stage of savagery) : পর্যায়ের সূচনা হয়েছে আগুনের প্রয়োগ খাদ্য হিসেবে মাছের ব্যবহারের সাথে সাথে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আগুনের ব্যবহারের ফলেই খাদ্য হিসেবে মাছ আহারের যোগ্য হয়। আগুনের ব্যবহারের ফলে মাছ নতুন খাদ্য হলো। নতুন খাদ্য মানুষকে জলবায়ু স্থানীয় গণ্ডি থেকে মুক্ত করলো। নদীর গতিপথ এবং সমুদ্রের উপকূল ধরে মানুষ অনায়াসে দূর দূর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বসবাসের নতুন অঞ্চলগুলোর কারণে এবং পাথর ঘষে আগুন তৈরির বিদ্যা আয়ত্ত করার সাথে জড়িত নতুন নতুন আবিষ্কারের অবিরাম সক্রিয় তাগিদে নতুন সব খাদ্যসামগ্রী পাওয়া গেল। এভাবে একদিকে যেমন নতুন নতুন খাদ্য আবিষ্কার হতে লাগলো, অন্যদিকে তেমনি নতুন নতুন হাতিয়ারও। কিন্তু তবুও মাঝেমধ্যে খাদ্যের অনিশ্চয়তা দেখা যেত এবং অনিশ্চয়তার ফলেই অনেকে মনে করেন, সময় নরমাংস ভোজনের উদ্ভব হয়েছে এবং তা অনেকদিন ধরে চলতে থাকে।

. বন্য অবস্থার উচ্চ পর্যায় (Upper stage of savagery) : তীরধনুক আবিষ্কারের সাথে সাথে পর্যায়ের সূচনা হয়। তীরধনুক আবিষ্কারের ফলে জীবজন্তু নিয়মিত খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং শিকার করা একটা স্বাভাবিক পেশা হয়ে উঠে। পর্যায়ে মানুষ কাঠের পাত্র তৈরি করতে পারতো। গাছের ছাল থেকে চুবড়ি তৈরি করতে পারতো এবং পাথরের হাতিয়ারকে বিশেষ কায়দায় ঠুকে ঠুকে ধারালো করতে জানতো। সংক্ষেপে বলা যায় যে, তীরধনুক আবিষ্কার করার পর থেকেই মানুষের সমাজ অনেকখানি অগ্রসর হয়েছে।

বর্বর দশা

বর্বর অবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পশুপালন, প্রজনন এবং চাষাবাদ। যুগে মানুষ পশুপালন প্রাথমিক পর্যায়ের চাষাবাদ প্রথা আবিষ্কার করে। বর্বর অবস্থার সূচনা হয় মৃৎশিল্প তৈরি করা থেকে এবং অবস্থার সমাপ্তি টানা হয় লেখার হরফ ও লোহার আবিষ্কারের সাথে সাথে। মর্গান বর্বর অবস্থাকেও তিনটি পর্যায়ে ভাগ করেন। যথা; বর্বর অবস্থার নিম্ন পর্যায়, বর্বর অবস্থার মধ্য পর্যায় বর্বর অবস্থার উচ্চ পর্যায়।

. বর্বর অবস্থার নিম্ন পর্যায় (Lower stage of barbarism): মৃৎশিল্প থেকেই পর্যায়ের সূচনা। নানা তথ্য থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, আগুন থেকে কাঠের পাত্রকে বাঁচানোর জন্য প্রথমে কাঠের পাত্রে মাটির প্রলেপ দেয়। পরে অভিজ্ঞতা থেকে তারা আবিষ্কার করলো যে, কাঠের পাত্র ছাড়াও কেবল মাটি পুড়িয়ে মাটির পাত্র তৈরি করা যায়। পর্যায়ের পরিসমাপ্তি টানা হয় কৃষি পশুপালন করতে শেখার অবস্থা থেকে।

. বর্বর অবস্থার মধ্য পর্যায় (Middle stage of barbarism): পূর্ব মহাদেশে পশুপালনের পর্যায়ের সূচনা হয়। পশ্চিমে সেচের সাহায্যে খাদ্য চাষ করে। গৃহনির্মাণের জন্যআডবহচ্ছে রোদে শুকানো মাটির ইট এবং পাথর ব্যবহারের সাথে স্তর আরম্ভ হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলগুলোর অধিবাসীগণ প্রাথমিক পর্যায়ের চাষ করতো। তারা ভুট্টা, লাউ, ফুটি অন্যান্য শাক সবজির চাষ করতো। তারা কাঠের তৈরি বাড়িতে বাস করতো। গ্রামগুলোও কাঠের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল। নিউ মেক্সিকোর পুয়েরো (Pucblo) ইন্ডিয়ান উপজাতিরা, মেক্সিকানরা, মধ্য আমেরিকানরা বিজিত হওয়ার সময় বর্বরতার মধ্যবর্তী স্তরে ছিল। তারা পাথর অথবা আডব দিয়ে তৈরি দুর্গের মতো বাড়িতে বসবাস করতো এবং জলবায়ু আঞ্চলিক অবস্থা বিচার করে কৃত্রিম সেচ ব্যবস্থায় বাগানে ভুট্টা অন্যান্য খাদ্যশস্যের চাষ করতো।

আরও পড়ুন:   নৃবিজ্ঞানের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ আলোচনা কর

পূর্ব গোলার্ধে দুধ মাংস উৎপাদনকারী পশুপালনের সাথেই বর্বরতার মধ্যবর্তী স্তর শুরু হয় এবং পর্বের অনেককাল পর্যন্ত চাষবাস অজ্ঞাত ছিল বলে মনে হয়। গবাদি পশু পালন প্রজনন এবং বড় বড় পশুর খাদ্যের জন্য শস্যাদির চাষাবাদ শুরু হয় এবং পরবর্তীকালে ঐগুলোই মানুষের পুষ্টির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

. বর্বর অবস্থার উচ্চ পর্যায় (Upper stage of barbarism): লোহার ব্যবহার শেখা থেকে পর্যায়ের সূচনা। পর্যায়ে গবাদি পশুচালিত লোহার ফলাযুক্ত লাঙল ব্যবহৃত হয়। বর্বর অবস্থার উচ্চ পর্যায়ে লোহার যন্ত্রপাতি, হাঁপর, যাঁতা, কুমারের চাক, তেল মদের নিষ্কাশন ইত্যাদির ব্যবহার প্রচলিত ছিল।

সভ্যদশা

সভ্যযুগে এসে মানুষ কৃষিকর্মে আরো উন্নতি লাভ করেছে। এসময়ে মানুষ মাটির পাত্রে ফসল রাখতো, লাঙল দিয়ে চাষ করতো এবং চাকাযুক্ত শকট পাল তোলা নৌকা চালাতে আরম্ভ করেছে। সভ্য যুগকে আবার দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে; যথা: প্রাচীন যুগ আধুনিক যুগ।

. প্রাচীন যুগ মানুষের শিল্প, সাহিত্য সংস্কৃতি বিস্তারের যুগ,

. আধুনিক সভ্যযুগ হচ্ছে বর্তমান পর্যায়ের বিজ্ঞানের যুগ, যার সূচনা হয়েছে ১৭৬২ খ্রিস্টাব্দে শিল্পবিপ্লবের মাধ্যমে।

এভাবে এল. এইচ. মর্গান মানবসমাজ সংস্কৃতি বিকাশে বন্যদশা বর্বরতার মধ্য দিয়ে সভ্যতার সূচনা পর্যন্ত মানব সমাজের বিবর্তনের ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তাঁর ব্যাখ্যা থেকে কথা বলা যায় যে, প্রতিটি পর্যায়ে উৎক্রমণের ক্ষেত্রে আবিষ্কার উদ্ভাবন বিবর্তনের ধারাকে করেছে গতিশীল।

উপর্যুক্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে মর্গান মনে করেছিলেন যে মানবজীবন একটি অথর্ব পর্যায় হতে সভ্যতার পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। উত্তরণের পথে কয়েকটি মধ্যবর্তী স্তর অতিক্রম করে এসেছে। কিন্তু তাঁর মতবাদের সমালোচনা করেছেন অনেকেই। সমালোচনা সত্ত্বেও

চিন্তাধারা মানবজাতির সংস্কৃতির বিকাশে একটি প্রভাবশালী দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে টিকে থাকবে। বিবর্তনবাদী নৃবিজ্ঞানীদের কতকগুলো তাৎপর্যপূর্ণ অবদান প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে; যেমন

. বিবর্তনবাদী নৃবিজ্ঞানীদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের ধারা বিশ্লেষণ বিজ্ঞানভিত্তিক বস্তুনিরপেক্ষ।

. বিবর্তনবাদী সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানীগণ ক্রমবিকাশের সূত্র অনুসরণ করে সমাজ সাংস্কৃতিক পর্যালোচনা করে।

. পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত জনগোষ্ঠীর যোগসূত্র তাদের সাংস্কৃতিক জীবনের সাধারণ নিয়ম খুঁজে বের করাই বিবর্তনবাদী নৃবিজ্ঞানীর লক্ষ্য।

. বিবর্তনবাদীরা এক সূত্রীয় ব্যাখ্যার আশ্রয়ে ঘটনার বিচারবিশ্লেষণ

পরিহার সমাজ সংস্কৃতির জীবনের সাধারণ নিয়ম খুঁজে বের করাই

বিবর্তনাবাদী নৃবিজ্ঞানীর লক্ষ্য।

. বিবর্তনবাদ সমাজস্থ মানুষের আচারব্যবহার কর্মকাণ্ডকে কতকগুলো নির্দিষ্ট প্রবৃত্তির ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর ভিত্তি টানা হয়েছে ঐতিহাসিক তথ্য থেকে।

Related Posts