Home শিক্ষানৃবিজ্ঞান সামাজিক গতিশীলতা বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?

সামাজিক গতিশীলতা বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?

by Rezaul Karim
সামাজিক গতিশীলতা বৈশিষ্ট্য

সামাজিক গতিশীলতা বৈশিষ্ট্য

সাধারণত সমাজবিজ্ঞানীগণ গতিশীলতার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। নিম্নে এ দুটি বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

১. কার্যসম্পাদন চাহিদার পরিবর্তন

সমাজের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে সমাজের জটিলতা বেড়ে চলেছে। জটিলতার তাগিদে সমাজ হচ্ছে পরিবর্তিত। এ পরিবর্তন কি দ্রুততর হচ্ছে না মন্থর হচ্ছে, শীঘ্র হচ্ছে না বিলম্বে হচ্ছে তা নির্ণয় করতে হলে সমাজে পেশাগত কাজ কিরূপভাবে চলছে এবং পেশাগত পদে কিরূপ উঠানামা হচ্ছে তা নির্ণয় করাই হচ্ছে সামাজিক গতিশীলতার প্রধান কাজ। সুতরাং সামাজিক গতিশীলতা সেখানেই ক্রিয়াশীল যেখানে কার্যসম্পাদন হচ্ছে। বিশেষ করে, সামাজিক গতিশীলতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কার্যের মান ও এর চাহিদা নির্ণয় করা। বংশগত পর্যায়ে যখন গুটিকতক লোক সমস্ত সমাজের দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়েছে তখনই সমাজে সৃষ্টি হলো প্রতিযোগিতার। এ প্রতিযোগিতার মান নির্ধারণ করাই হচ্ছে সামাজিক গতিশীলতার কাজ। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি যে, জন্মগত অধিকার সূত্রে অনেক শাসক সমাজের নিম্ন শ্রেণিদের শাসন করছে। তাদের অক্ষমতার সাথে সাথে সমাজে নতুন দলের উৎপত্তি হচ্ছে। ফলে তাদের ক্ষমতা ও ঐতিহ্য হস্তান্তর করার জন্য দ্বন্দ্ব চলছে।

সামাজিক গতিশীলতা কি | সামাজিক গতিশীলতা বলতে কি বুঝায়

২. বুদ্ধিজীবী বিকাশের পরিবর্তন

সমাজে অনেক দায়িত্বপূর্ণ পদে বুদ্ধিজীবীদের প্রয়োজনে গতিশীলতা লক্ষ করা যায়; যেমন- কোন লোক যদি কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছর কাজ করার ফলে অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে এবং সে যদি ঐ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিম্নপদে কাজ করে থাকে তবুও তার প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্বন্ধে অনেক জ্ঞান থাকে। নতুন কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সেখানে সে পূর্ব পদের চেয়ে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হতে পারে। আবার জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেও অনেকে উচ্চপদে অধিষ্ঠিত হতে পারে; যেমন- কোন লোক যদি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কয়েক বছর কাজ করে থাকে এবং অন্য কেউ যদি তার চেয়ে অধিক মেধাসম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে বহালের সময় সাধারণত মেধাসম্পন্ন ব্যক্তিকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। কাজেই বুদ্ধিজীবী বিকাশের সাথে সাথে সামাজিক গতিশীলতা নিম্নের দিকেও যেতে পারে আবার ঊর্ধ্বমুখীও হতে পারে।

মানবজাতির বুদ্ধি বিকাশ করতে কোন শাসকবর্গ পারে না এবং এর ক্ষমতা ও বুদ্ধির সাথে সাথে কর্মে নিয়োজিত অনেক শাসকবর্গও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে হার মানতে বাধ্য হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী কার্ল ম্যানহেইম বলেন যে, উপযুক্ত ক্ষমতা, যোগ্যতা ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য ব্যতীত কিভাবে একজনকে নেতৃত্ব প্রদান করা যেতে পারে? কতটুকু গুণের অধিকারী হলে নতুন একজন পুরাতন অভিজাত সম্প্রদায়কে পিছনে ফেলতে পারে? কি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো অভিজাত সম্প্রদায় নতুন ভূমিকা গ্রহণ করে তার একচেটিয়া মর্যাদাকে খর্ব করতে পারে? এসব জটিল প্রশ্ন থেকে সমাজের অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা, স্থায়িত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সমাজের সম্পর্ক নির্ধারণ করা যায়।

সামাজিক গতিশীলতা বিভিন্ন পর্যায়ে সামাজিক দল দ্বারা ঘটতে পারে। যখন একজন সমাজের অন্য দলের সাথে বিবর্তনের মাধ্যমে পৃথক হয়ে দাঁড়ায় বিশেষকরে, অর্থনৈতিক আয় ও সম্পদের মালিকানা, সামাজিক ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রভুত্বের অধিকারী ও লোপ ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে হতে পারে।

সামাজিক গতিশীলতা কত প্রকার ও কি কি?

কোন সমাজ খুব গতিশীল আবার কোন সমাজ স্থিরভাবে রয়েছে। কিন্তু এমন কোন সমাজ নেই যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির সমন্বয় নেই এবং উচ্চ, নিচু ও মধ্যম শ্রেণির উঠানামা পরস্পর পরস্পরের সাথে এবং ব্যক্তি দলের গতি পরিবর্তন হচ্ছে না। সমাজবিজ্ঞানী সরোকিন তাঁর মূল্যবান অধ্যয়নে ঊর্ধ্ব-চক্রবাল গতিতে দেখেছেন যে, এ ঘটনা স্থানে স্থানে, দলে দলে ও সময়ে সময়ে বিভিন্নভাবে কাজ করছে। তিনি লক্ষ করেছেন যে, কোন নির্দিষ্ট সমাজে সামাজিক রীতিনীতি সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তিত হচ্ছে। তিনি গণতান্ত্রিক সমাজের তুলনায় একনায়কতন্ত্র সমাজে গতিশীলতা বেশি লক্ষ করেছেন।

বিশেষ করে তিনি দেখেছেন যে, ঊর্ধ্বত-চক্রবাল গতি সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যের মাধমে ও গুরুত্বের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে; যেমন- গীর্জা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও সঙ্গীত বিদ্যালয়), সরকারি অফিস, প্রশাসকবর্গ, আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক দল, পেশাগত অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তি ও দলের সামাজিক মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে। ফলে কেউ সমাজে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন হয়ে থাকে আবার কারো সামাজিক মর্যাদা লোপ পেতে থাকে। সামাজিক গতি ঊর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী উভয়ই হতে পারে।

এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে কাজ হয়ে থাকে তার ফলে কেউ সামাজিক দিক দিয়ে মর্যাদা হারায় আবার কেউ ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে উঠে। কোন সমাজ তার সংস্কৃতির ঐতিহ্যের ও মূল্যবোধের অধিকারী হতে পারে। যদি এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামাজিক ব্যক্তি ও দল তাদের সংস্কৃতির পূর্ণ বিকাশ না ঘটাতে পারে তাহলে শুধু ব্যক্তি দলের নয় সমগ্র সমাজের অগ্রগতি লোপ পায় এবং সমাজ তলিয়ে যেতে থাকে।

Related Posts